সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন ফোরামের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে কর্মবিরতি পালন নাজমুল হকের অকাল মৃত্যুতে নারী নেত্রী ফেরদৌস আরা পাখি”র শোক ও সমবেদনা দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে মত বিনিময় করেন ডক্টর সামছুল হক চৌধুরী মাদ্রাসা উন্নয়নে নগদ অর্থ প্রদান করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু বক্কর খাঁন সার্চ মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে ড. সামছুল হক চৌধুরী ও আবু বক্কর খাঁনকে সংবর্ধনা প্রদান এমপিও নীতিমালার বৈষম্য দূরীকরণের দাবীতে মানববন্ধন সুনামগঞ্জে যুব মহিলালীগের সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন স্মরণ উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় যুবলীগ নেতা হৃদয়’র অভিনন্দন দেশ ও প্রবাসের নতুন স্থান পেয়েছেন সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে
টাংগুয়ার হাওরে পানকৌড়ির নিরাপদ অভয়াশ্রম

টাংগুয়ার হাওরে পানকৌড়ির নিরাপদ অভয়াশ্রম

আহাম্মদ কবির,তাহিরপুর হতেঃবয়স্ক ভারি গলার কাশির মতো খক্ খক্, খেকর-খেকর শব্দ দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট এলাকার রাজার দাইড় নামক এলাকা,এই এলাকাটি লোকজনের কাছে অতি পরিচিত। এই এলাকা দিয়ে যদিও বা স্থানীয় কেউ পদচারনা করে তাদের মাথায় কখনোবা ছুটে আসে কটু গন্ধের পাখির বিষ্ঠা।

প্রায় যুগযুগান্তর ধরে টাংগুয়ার হাওর এলাকার রাজার দাইড়ের পাড়ে হিজল গাছের বাগানের বসবাস করে আসছে একঝাঁক পানকৌড়ি।

হিজল গাছ গাছালি আবৃত নীরব নিভৃত এই এলাকাটি এখন পানকৌড়ি পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

হাওর পাড়ের স্থানীয় মানুষও যেন তাদের উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই নীরব নিবৃত এলাকায় প্রবেশ করলেই যেকোনো সময় মাথায় ছেড়ে দেয় পানকৌড়ির পুরীষ।

তাই স্থানীয়রা এই হিজল বাগানে ছড়িয়ে থাকা বিষ্ঠার দাগের সীমানা থেকে দূরত্ব রেখে দ্রুত পথ অতিক্রম করে যান।

স্থানীয়রা জানান,ছোট পানকৌড়িরা এখানে আসে হেমন্তকালীন সময়ে। এখানে তারা জোড় বাঁধে, বাসা বানায়, ডিম দেয় ও বাচ্চা ফোটায়।

আবার ছানাপোনা বড় হলে জৈষ্ঠ্যমাসের প্রথম দিকে উড়াল দেয় অন্য কোনো আবাসের উদ্দেশে।

তারা জানান আমাদের হাওরাঞ্চলে অতি পরিচিত পাখি এই পানকৌড়ি। ওদের খাদ্য হলো মাছ। কালো শরীরে ছড়ানো লেজ, হাঁসের মতো পা। সাপের মতো লম্বা বাঁকানো গ্রীবা, সুঁচালো বাঁকা ঠোঁট। প্রজনন মৌসুমে শরীরের কালো রং কিছুটা ফিকে হয়ে যায়।

এদের সচরাচর দেখা যায় নদী ও বিল এলাকায়। উঁচু গাছে ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে। মা পানকৌড়ি একবারে দুই থেকে ছয়টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। বাচ্চা ফুটতে লাগে ১৭ থেকে ২১ দিন।

দেশের হাওরাঞ্চলে হাওর বিল নদীতে এদের বিচরণ নিয়মিত । ডুব সাঁতারে মাছ ধরতে দক্ষ এই ছোট পানকৌড়ি অনেক সময় দুঃসাহস দেখিয়ে বাড়ির পুকুরেও নেমে পড়ে। শিকারিদের কারণে আর আবাস ভূমি সংকুচিত হয়ে এখন ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে এরা।

সুনামগঞ্জ দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওরের রাজারদাইড়, টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ইছামারী গ্রামের, একই উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সানোয়া গ্রাম সহ টাংগুয়ার হাওর পারের একাধিক স্থানে পানকৌড়ির আবাসস্থল।

টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ কবির বলেন, নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে এখানে পাখি আসে। বিগত সময়ে এই এলাকায় পাখিদের বিচরণ খুব বেশীছিল বর্তমানে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সমস্ত এলাকায় সচরাচর মানুষের প্রবেশ ও গাছগাছালির ডাল পালা কেটে পাখিদের থাকার ব্যবস্থা নষ্ট পথে। সে কারণেই হয়ত ওদের আগমন কমেছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

টাংগুয়ার হাওর ইক্যু ট্যুরিস্ট গাইড অকিল তালুকদার বলেন আমি টাংগুয়ার হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থানে খুববেশী চলাফেরা করি । বক-পানকৌড়িদের প্রতি মানুষের কোনো অন্যায় আচরণ আমার নজরে আসলে তার প্রতিবাদ করি। তবে গত কয়েকদিন পূর্বে টাংগুয়ার হাওরে পাখি ধরা ও হত্যার সংবাদ মাঝেমধ্যে শুনা গিয়েছিল।মাঝে মাঝে বাজারে বিক্রি হয়েছে শুনেছি।”

এগুলো বন্ধ করতে সচেতনতা বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

শেয়ার করুন
  • 99
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT