মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৪১ অপরাহ্ন৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
কচুরিপানা খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেননি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তাহিরপুর উপজেলায় জাতীয় সংগীত প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অর্জনে তেঁলীগাও সপ্রাবি জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল আর নেই “প্রেম পাগলের ভালোবাসা’ মুক্তি পেল ফের আলোচিত নয়ন দয়া তাহিরপুর উপজেলায় হযরত ক্কারী নূর আলী শাহ্’র উরুস বুধবার দোয়ারাবাজার উপজেলায় ব্রীজের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন “মাদক-সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায়” এস পি মিজানুর রহমান নন্দীগ্রামে আ’লীগের ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ তাহিরপুর উপজেলায় একাধিক ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ধীরগতিতে তাহিরপুরে ওসির প্রচেষ্টায় পাঠলাই নদীর নৌ যানজট নিরসন
তাহিরপুর উপজেলায় নদীর নব্যতা হারানোর ফলে,নৌ যানজটের সৃষ্টি

তাহিরপুর উপজেলায় নদীর নব্যতা হারানোর ফলে,নৌ যানজটের সৃষ্টি

আবু জাহান তালুকদার,তাহিরপুর প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নদী পথের নাব্যতা সংকটের কারনে উপজেলার নৌ যানজটের শিকার হয়েছে।

ব্যবসা বাণিজ্য পড়েছে হুমকির মুখে। প্রতি বছর কোটি কোটি ঘনফুট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বড়ছড়া,টেকেরঘাট,

চাড়াগাঁও শুল্ক ষ্টেশন থেকে কয়লা,

চুনাপাথর, এবং উপজেলার বালু ও নুরী পাথর ক্রয় করে,বাজিতপুর,

কিশোরগঞ্জ,আশুগঞ্জ,ফতুল্লাসহ

সারা দেশে যোগান দেয় এখানকার ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ,নদীপথ।এই সব নদীকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ভাবে প্রায় অর্ধ লক্ষ শ্রমিক জড়িত রয়েছে। এ উপজেলার নদী গুলোর নাব্যতা হারাচ্ছে প্রতি বছর। নদীর তলদেশ খনন না করার কারণে বালু-পাথর বহনকারী ষ্টীলবডির নৌযান আটকা পড়েছে।

জানাযায়,এ উপজেলার সাথে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাইরের জেলা ও উপজেলার সাথে মালামাল পরিবহনে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই,বর্ষায় ও হেমন্তে নৌ-পথ ই ভরসা। হেমন্ত কালে প্রয়োজনের তাগিদে লোকজন পাঁয়ে হেঁটে কিংবা মটর সাইকেলে চলাচল করলেও মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম নদী পথ। সে জন্য এ উপজেলার সকল হাট-বাজার নদী তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত।

কিন্তু নদী গুলোর নাব্যতা সংকটের কারনে অক্টোবর মাস থেকেই ব্যবসা বানিজ্যে ভাটা পরে। আর বিপন্ন হতে চলেছে নদী পাড়ের লোক জনের জীবন ও জীবিকা। এ উপজেলার আগত দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও তাহিরপুর উপজেলা সহ মালবাহী নৌয়ান শ্রমিকরা ওই সব নদীতে চলাচল করতে গিয়ে দিনের পর দিন আটকা পড়ে মানবেতন দিন অতিবাহিত করছেন। আর বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি করছে সংঘবদ্ধ চক্র ও যেখানে ৩০মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ১৫-২০দিনের বেশী সময় লেগে যাচ্ছে। লাভের পরির্বতিতে ক্ষতির শিক্ষার হচ্ছে ব্যবসায়ীরা ।উপজেলার পাটলাই বৌলাই নদীসহ বিভিন্ন নদী শুকিয়ে যাওয়ার ও নব্যতা হারানোর ফলে, এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে উপজেলাবাসীর জীবন যাত্রায়। ঐসব নদী দিয়েই তাহিরপুর উপজেলার সুনামগঞ্জ জেলা সদর ধর্মপাশা,

জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভপুর, মধ্যনগর,ধর্মপাশা সহ পাশ্ববর্তি নেত্রকোনা,কমলাকান্দা মহোনগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ,ভৈরবসহ দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বানিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন মালামাল নৌ-পথে পরিবহন করে যোগাযোগ রক্ষা হয়। কিন্তু হেমন্তে নদীপথে অভ্যন্তরীন ও বাইরের যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।

পরিবহনের দুরবস্থার কারনে এ উপজেলার দ্রব্য মূল্যের দাম পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোর চেয়ে অনেক বেশী। আরো জানাযায়,পাটলাই, বৌলাই,সহ গুরুত্বপূর্ন নদী গুলোর নাব্যতা হারানোর ফলে উপজেলার পাটলাই নদীতে হেমন্ত কালে পাটাবুকা থেকে কানামইয়া বিল পর্যন্ত নৌ-জটের সৃষ্টি হয়।যার ফলে বেকার হয়ে পড়ে এর সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা। পাটলাই নদীটি বড়ছড়া থেকে শ্রীপুর বাজার পর্যন্ত ৫কিলোমিটার এবং সোলেয়মানপুর এলাকায় পাটলাই নদীর শাখা নদী পাইকর তলা নদীতে ২কিলোমিটার,বৌলাই নদীটির তাহিরপুর সদর থেকে সেলাইমানপুর ও তাহিরপুর থেকে সুলেমানপুর পর্যন্ত শুকিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। মেঘালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে যাদুকাট নদীটি বাংলাদেশের ১কিলোমিটার ভিতরে বালিজুরী ইউনিয়নের ফাজিলপুর এসে নাম নিয়েছে আরেকটি নদী রক্তি। এখানেই নদীটি বৌলাইয়ের সাথে মিলিত হয়েছে। তাহিরপুর, উপজেলার নদীপথের নৌ শ্রমিকরা জানান,প্রায় তারা নদীতে আটকা পড়ার কারণে থাকা-খাওয়ার সমস্যাসহ এলাকার কথিপয় অসাধু চক্রের হাতে লাঞ্চনা-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ টহলে থাকলে সাময়িক সময় নৌ-শ্রমিকরা ভালো থাকলেও পুলিশ চলে আসলে তারা চরম আতংকগ্রস্থ অবস্থায় সময় পাড় করছেন।

চুনাপাথর ও কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান-নাব্যতা সংকটের কারনে ৩০মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হয় ১৪-১৫দিন সময় লেগে যায়। সময় মত মালামাল ক্রেতাদের দিতে পারি না। নদীটি যাওয়ায় বড় নৌকা বিক্রি করে নৌ মালিকগন এখন ১২ফুট বালি,পাথর পরিবহনে সক্ষম ছোট নৌকা বানিয়েছেন পরিবহন সহজ করতে।

এতে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস রঞ্জন পুরকায়স্থ টিটু বলেন নদীটির নব্যতা হারিয়ে ফেলেছে,নদী খনন না করার কারনে পানি ক্ষমার সাথে সাথেই এই নৌ যানযটের সৃষ্টি, এছাড়াও নৌচালকদের আগেপিছে যাওয়া নিয়ে শৃঙ্খলা হারিয়ে এই নৌযানজট হচ্ছে। এব্যাপারে প্রথমেই সরকারের কাছে নদী খননের দাবী জানাই এবং নৌচালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের দিয়ে লাইসেন্স প্রদানের মধ্যদিয়ে তাদের একটি জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবী জানাই।এছাড়াও উনি বলেন আমি আস্বস্ত করতে পারি আমরা বঙ্গবন্ধু কর্মমুখী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে যারা হাওরাঞ্চলে নৌকা চালায় তাদের নৌ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন এই নদীটির নব্যতা হারানোর কারণে পানি কমার সাথে সাথে এই নৌ যানজট সৃষ্টি, এখানে আটকে পড়া নৌযানের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও উনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন
  • 314
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT