মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০৯ অপরাহ্ন৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও নীতিমালার বৈষম্য দূরীকরণের দাবীতে মানববন্ধন সুনামগঞ্জে যুব মহিলালীগের সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন স্মরণ উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় যুবলীগ নেতা হৃদয়’র অভিনন্দন দেশ ও প্রবাসের নতুন স্থান পেয়েছেন সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ডক্টর সামছুল হক চৌধুরীকে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচছা প্রদান বঙ্গবন্ধুর সমাধীতে মহিলা শ্রমিকলীগের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও শপথ গ্রহন বিশ্বম্ভপুরে হিলিপ টাকা আত্মাসাতের অভিযোগেে হারুন মিয়া গ্রেফতার যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু বক্কর খাঁনের সমর্থনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সার্চ মানবাধিকার কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন সুনামগঞ্জের হুসনা হুদা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত সুনামগঞ্জে মারপিট মামলার আসামী ফজলু মিয়া গ্রেফতার
তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎস্য সেবা ব্যাহত: ইউএইচএফপি’ ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎস্য সেবা ব্যাহত: ইউএইচএফপি’ ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৩ লক্ষাধিক জনসাধারনের চিকিৎসা সেবায় একধাপ এগিয়ে যেতে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মান করেছে সরকার। হাসপাতালের অনেক ডাক্তারের পদশূণ্য পুরণে সম্প্রতি ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএসে উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬জন নতুন চিকিৎসককে পদায়ন করেন। কিন্ত পরদিন ৩ চিকিৎসকের বদলি হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি। চিকিৎসক সংকট রয়েই গেল। এ দিকে হাসপাতালের ইউএইচএফপি ডাক্তার ইকবাল সরকারী হাসপাতালকে প্রাইভেট প্রাকটিসের স্থল বানিয়েছেন। হাসপাতালে রোগী দেখতে কোন ফি নেয়ার বিধান না থাকলেও প্রকাশ্যেই তিনি রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৫শ টাকা হারে ভিজিট ফি। টাকা না দিলেই রোগীদের সাথে রূঢ় আচরণ করার অভিযোগ অহরহ। গ্রামের সহজ সরল মানুষ ডাক্তারের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি কিংবা প্রতিবাদ করার সাহসও পায়নি। নিয়মিত অফিস না করে সপ্তাহের ৪দিনই সিলেটে অবস্থান করে স্ত্রী,সন্তান ও প্রাইভেট চেম্বারে প্রাকটিসের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সুত্র জানায়, গত ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচএফপি হিসেবে যোগদান করেন ডাক্তার ইকবাল। তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের চর্তুভুজ্ গ্রামে। যোগদানের পর থেকেই তিনি হাসপাতালে অবস্থান করে প্রাইভেট প্রাকটিস করছেন এবং হাসপাতালটি নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে পরিনত করেছেন। হাসপাতালের সংস্কার কাজের মালামাল নিজ বসতবাড়ীতে ব্যবহার করেছেন। হাসপাতালের অন্যান্য ডাক্তার ও স্টাফদের সাথে রূঢ় আচরন করার অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালের পার্শ্বের গ্রামে বাড়ী থাকার কারণেই অন্যান্য ডাক্তার ও স্টাফসহ রোগীদের সাথে অসৎ আচরন করে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাছেত জানান, ডাক্তার ইকবাল সাহেব সপ্তাহের বেশীরভাগ সময়ই সিলেটে অবস্থান করেন। যখনই হাসপাতালে যাই তখনই শুনা যায় তিনি সিলেটে আছেন। অথচ সর্বক্ষণ হাসপাতালে থেকে ডাক্তার ও স্টাফরা নিয়মিত ডিউটি করছে কিনা তা তত্বাবধান করার দায়িত্ব উনার। তিনি বেশীরভাগ সময় না থাকার কারণেই সাধারন রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কাইয়ুম জানান, ডাক্তার ইকবাল হাসপাতালের সংস্কার কাজের টাইলস ও অন্যান্য মালামাল নিজ বাড়ীতে ব্যবহার করেছেন এবং উনি নিয়মিত হাসপাতালে ডিউটি করেন না। সূত্র আরও জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচএফপিওসহ সর্বমোট ১৩ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কোন রকমে ইউএইচএফপিও ব্যতীত ৫ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা কার্যক্রম চলে আসাবস্থায় গত ১২ ডিসেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ চিকিৎসকের আগমন এবং ৩ চিকিৎসকের প্রস্থান হওয়ায় বর্তমানে কমর্রত রয়েছেন ইউএইচএফপিও ব্যতীত মোট ৮ চিকিৎসক। ৫০শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবন চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি উদ্বোধন করলেও বিভিন্ন পদে জনবল সংকটের কারনে চালু হয় নি। ফলে পুরনো ভবনেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। হাসপাতালের ৩টি জেনারেটার ১০বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পরে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা গরমে ছটফট করে। ১০বছরের বেশী সময় ধরে ডেন্টাল,ল্যাব টেকনোলজিষ্ট,রেডিওগ্রাফার পদ গুলো শূন্য রয়েছে ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য যেতে হচ্ছে বাহিরে। গত ৪ বছরের বেশী সময় ধরে এক্সরে মেশিন ঘরে ভিতরে থেকে ও হাসপাতালের জন্য একটি নৌ এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় একদিনের জন্যও ব্যবহার করা হয় নি। ফলে নৌ এম্বোল্যান্স নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পুকুরেই যেন দেখার কেউ নেই। উপজেলা থেকে ১০কিলোমিটার দূর বাদাঘাট ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলীনুর মিয়া জানান, হাসপাতালে ভাল কোন অভিজ্ঞ সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাই। মহিলাদের জন্য কোন গাইনী ডাক্তার না থাকায় মহিলারা চিকিৎসা নিতে বিপাকে পড়েন। এছাড়াও দাঁেতর ডাক্তার, এক্সরে, ল্যাবটেকনেশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে শূন্যতার কারনে বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয়।
এ ব্যাপারে ইউএইচএফপি ডাক্তার ইকবাল হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে তাহিরপুরে যোগদানের পর হাসপাতালের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা অর্থাৎ ইউএইচএফপি’র দায়িত্ব পালন করার কারণে জেলা সিভিল সার্জন, সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা সমন্বয় সভায় যোগদান করতে হয়। ফলে মাসের অন্তত ১০-১২ দিন অফিসে ডিউটি করা সম্ভব হয় না। আমি যোগদানের পর থেকেই তাহিরপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। আর সে কারণেই কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করছেন। আপনারা গণমাধ্যম কর্মী, হাসপাতালে সরজমিনে উপস্থিত হয়ে প্রতিবেদন করার অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল জানান, ইউএইচএফপি ডাক্তার ইকবালের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পত্র পত্রিকায় দেখেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনবল সংকট থাকায় সঠিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়তে হয়।

শেয়ার করুন
  • 153
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT