শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৩০ অপরাহ্ন১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
বামিংহামে করোনা দূর্যোগে খাবার বিতরণ করেন আলহাজ্ব কবির উদ্দিন ও ওয়াছিমুজ্জামান ছাতকে মধ্যরাতে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ-গ্রেপ্তার ১ সুনামগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে হারিছ উদ্দিনের স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে মৎস্যজীবি লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন ফোরামের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে কর্মবিরতি পালন নাজমুল হকের অকাল মৃত্যুতে নারী নেত্রী ফেরদৌস আরা পাখি”র শোক ও সমবেদনা দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে মত বিনিময় করেন ডক্টর সামছুল হক চৌধুরী মাদ্রাসা উন্নয়নে নগদ অর্থ প্রদান করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু বক্কর খাঁন সার্চ মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে ড. সামছুল হক চৌধুরী ও আবু বক্কর খাঁনকে সংবর্ধনা প্রদান
প্রয়াত জননেতা ও মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল’র দ্বিতীয় মৃত্যৃ বার্ষিকী আজ

প্রয়াত জননেতা ও মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল’র দ্বিতীয় মৃত্যৃ বার্ষিকী আজ

প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখত জগলুল’র দ্বিতীয় মৃত্যৃ বার্ষিকী আজ
মিজানুর রহমান রুমানঃ সুনামগঞ্জ
প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখত জগলুলের দ্বিতীয় মৃত্যৃ বার্ষিকী আজ। আয়ুব বখত জগলুলের ছিলো এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। প্রকৃতি-সৃষ্টির বিধানে যেভাবে সকলকে ছেড়ে চলে যেতে হয় এক অজানা জগতে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন শেষে ভোরে ২০১৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে। আজ তারঁ দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালন করছে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। গ্রাম কিংবা শহর যেকোন স্থানের কোন মানুষ বিপদে পড়লে মেয়র জগলু’র কাছেই যেতেন এবং তাৎক্ষনিক সমস্যার সমাধান পেতেন। কারো শূণ্যতায় যেমন কিছু আটকে থাকে না কিন্তু যেভাবে চলার কথা তেমন ভাবেও চলেনা।
আইয়ুব বখত জগলুল ছিলেন একজন র্নিলোভ গণমানুষের নেতা। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরোপকারী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন লড়াকু সৈনিক। পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বড় ভাই মনোয়ার বখত নেকের উত্তরসুরী হিসেবে সুনামগঞ্জ পৌরবাসীর মন বিজয় করে জেলাবাসীর স্বপ্নের নেতায় পরিনত হয়েছিলেন তিনি। একাই হাজারো মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা ও কৌশল আয়ত্ব করেছিলেন তিনি। তিনি দলীয় রাজনীতির ভেড়াজাল ভেঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান করতে পেরেছিলেন জেলার আপামর সাধারন মানুষের মনে। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর সততা ও দুরদর্শী রাজনীতি দেখে তাকে আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্তি করেছিলেন। বর্তমান সুনামগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন তারই অবদান। তিনি রাতের আধাঁরে ছুটে যেতেন অসহায় ও অভুক্ত দরিদ্র মানুষের দোয়ারে। রাত জেগে উন্নয়ন কর্মকান্ড নিজে পর্যবেক্ষন করতেন। ফলে ঠিকাদাররা পৌরসভার কোন উন্নয়ন করতে গিয়ে ভয় পেতেন। তিনি কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলতেন না। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালাই বলতেই পছন্দ করতেন। যার দরুন দলীয় অনেক নেতাকর্মী তাঁেক বেশী পছন্দ করতেন না। তিনি যা ভাল মনে করতেন তাই করতেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ পৌরসভার অর্থনৈতিক শূণ্য অবস্থান থেকে একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিল। প্রায় ৩ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন তিনি। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে প্রাণপ্রিয় রাজনেতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে দায়িত্বপালন করাবস্থায় দলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে চিটকে পড়েছিলেন। তারপরও দলীয় আদর্শ থেকে তাকে এক চুলও বিচ্যুত হননি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যার একজন বিশ্বস্থ ভ্যানগার্ড হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে প্রানান্ত চেস্টা করে একটি অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন। তাঁর মধ্যে ছিলনা কোন অহংকার। তিনি ধনী মানুষের চেয়ে গরীব, অসহায় ও দরিদ্র মানুষকেই বেশী পছন্দ করতেন। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। অত্যন্ত সুনামের সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন সহ এবং সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পর পর দুবারের মেয়র হিসেবেও সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাদামাটা মানুষটিকে সুনামগঞ্জের মানুষ একজন সৎ ও দক্ষ রাজনীতিবীদ হিসেবে জানতেন। তার মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের মানুষ একজন সৎ, দক্ষ ও ত্যাগী রাজনীতিবীদকে হারিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে সবে মাত্র পা রেখেছিলেন আইয়ুব বখত জগলুল। মহান আল্লাহর কাছে এই মোনাজাত করি, আল্লাহ যেন এই সৎ, র্নিলোভ মানুষটিকে জান্নাত নসিব করেন। মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদের-ই লোক”। রাজনৈতিক যে কোন মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে প্রায়ই তিনি কবি গুরুর কবিতার এ চরণ দুটো উচ্চারণ করতেন। না। তাঁর এই কবিতার চরণ উদ্ধৃতি বৃথা যায়নি। সত্যিই তিনি মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন। মানুষকে ভালবাসতেন বলেই আজ তাঁকে জেলাবাসী গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে ভালবাসা শিক্ত হয় নি, তেমন মানুষ অন্ততঃ সুনামগঞ্জে খুঁজে পাওয়া দায়। যে জন সকলকে ভালবাসতে পারেন; তাকে ভালো না বেসে উপায় কী থাকে (?) পথে ঘাটে অফিস আদালতে যেখানেই তার সাথে কারো দেখা হত, দু’ হাত বাড়িয়ে কাছে টানতেন। তিনি একজন মুজিব আর্দশের লড়াকু সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ সহচর হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে তিনি খুব আদর করে সবাইকে তুই বলেই সম্বোধন করতেন। আর ‘তুই’ শব্দটাতেই থাকতো যেন জাদুর কাঠি। বিন¤্র শ্রদ্ধায় আপ্লুত হতো সবাই। পথে-ঘাটে দেখা না পেলে কেউ তাঁর বাড়িতে দেখা করতে গেলে শুধু মুখে ফিরে এসেছেন এমনটা হয়তো নেই।

শেয়ার করুন
  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT