বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুরের ১১৪ নং দক্ষিণ প্রভাকরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন দক্ষিণ সুনামগঞ্জে লোকনাথ পূজাঁয় প্রতিপক্ষের চুরিকাঘাতে নিহত ১ আহত ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু”র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাপন সম্পন্ন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজনকে হত্যা করার চেষ্টার অভিযোগ বহুবিবাহ ঠেকাতে বিবাহ পদ্ধতি ডিজিটাল করা জরুরি : ফররুখ শাহজাদ চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ই‌ন্তেকাল বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হাওর ভাতা প্রাপ্যতার দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ভাষা শহীদদের প্রতি পুরুষ অধিকার সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ
বোরো ধানের বাম্পার ফসল:ধুম পড়েছে ধান কাটায়-নিউ টাইমস্২৪

বোরো ধানের বাম্পার ফসল:ধুম পড়েছে ধান কাটায়-নিউ টাইমস্২৪

শাবজল হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার:হাওর বললেই যেমন বিস্তৃর্ণ জলরাশির ছবি চোখে ভেসে ওঠে, তেমনি ভেসে ওঠে বঞ্চিত এক জনপদের ছবিও। প্রকৃতিও প্রয়াশই বঞ্চনা করে হাওরবাসীকে। আগেভাগেই বন্যা এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। বছরজুড়ে আড়ালে থাকলেও অকাল বন্যার সময়ে আলোচনায় ওঠে আসে হাওরের জনপদ।

তবে এবার প্রকৃতি সহায় ছিলো হাওরবাসীর। কয়েকদিন শিলাবৃষ্টিতে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত আগাম বন্যা আসেনি। ফলে এবার হাওরজুড়ে হাসছে বোরো ধান। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ধান কাটা। প্রকৃতির এই আনুকল্য আরও সপ্তাহ দুয়েক অব্যাহত থাকলে এবার হাওরে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক আর কৃষি বিভাগ।

ধান ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ভয় কেটেছে। তবে এবার হাওরে দেখা দিয়েছে ভিন্ন সঙ্কট। ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাবে বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা এখনও শুরু করতে পারেননি কৃষকরা।করোনার পরিস্থিতিতে শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় নিজ জেলার শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর সুনামগঞ্জে জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়।এবার পুরো জেলা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের উপরে ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকেও সকল শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরঘুরে দেখা যায়, হাওরজুড়ে খেলা করছে সোনালী ধান। কৃষকরা ব্যস্ত ধান কাটায়। হাওড়ে হাওড়ে ধান কাটার ধুম পড়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের খুব ভালো ফলন হয়েছে। এই সপ্তাহ থেকে ধান কাটাও শুরু করেছি। তবে করোনার পরিস্থিতিতে রয়েছে শ্রমিক সঙ্কট,আর শ্রমিক সঙ্কটের কারণে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর,মাঠিয়ান ও ট্যাংগুয়ার হাওর কৃষকরা বলেন, ২০১৭ সালে বন্যায় সব ধান তলিয়ে গিয়েছিলো।২০১৮ সালেও ফসল ভালো হয়নি,গতবছরও আশানুরুপ ধান হয়নি। এবার অনেকদিন পর ভালো ফলন হয়েছে। হাওড়ের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়।

আজ বৃষ্টি হওয়ায় হাওরে ধান কাটা তেমন দেখা যাচ্ছেনা।তবে বৃষ্টি না আসলে আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ করা সম্ভব। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ার ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। হাওড়ে এখন তীব্র শ্রমিক সঙ্কট চলছে।

জানা যায়,করোনার আতঙ্কসহ নানা কারণে ধান কাটার সময় হাওড়ে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার শ্রমিক সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা বলেন, হাওড়ের আবহাওয়া এখনো পর্যন্ত ভালো।তবে (১৭-২০ এপ্রিল) মধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,যার ফলে কৃষকের অনেক ক্ষতি হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।তাই পাকা ধান দ্রুত সময়ের মধ্যে কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তবে শ্রমিক সঙ্কট বিষয়টি থাকতেই পারে যেহেতু করোনার পরিস্থিতিতে অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিক আসা নিষেধ করা হয়েছে।নিজ এলাকার শ্রমিক দিয়েই ধান কাটতে হবে।দ্রুত সময়ে ধান কাটার জন্য সব হাওরে ধান কাটার মেশিনও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চৈত্রের শেষদিকে শিলাবৃষ্টিতে ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কৃষকদের ধান কাটা শুরু করতে জেলার সকল কৃষকদের বলা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন,মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিক আনতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় ধান কাটার মেশিন দিয়েছি। সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের আমরা বলেছি,নিজ এলাকার শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার জন্য।যারা ধান কাটবে তাঁদের সরকারি ত্রানও দেওয়া হবে।কৃষদেরও দ্রুত কাটার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া এবার হাওরের বাঁধ নির্মাণে যাতে কোনো গাফিলতি না হয় সেদিকেও আমরা তীক্ষ নজর রেখেছিলাম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর প্রকৃতির আনুকুল্যে আশা করছি এবার সুনামগঞ্জে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

শেয়ার করুন
  • 93
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT