শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
এইচ টি ইমাম এর মৃত্যুতে আলহাজ্ব মতিউর রহমানের শোক জগন্নাথপুরের ১১৪ নং দক্ষিণ প্রভাকরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন দক্ষিণ সুনামগঞ্জে লোকনাথ পূজাঁয় প্রতিপক্ষের চুরিকাঘাতে নিহত ১ আহত ২জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু”র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাপন সম্পন্ন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজনকে হত্যা করার চেষ্টার অভিযোগ বহুবিবাহ ঠেকাতে বিবাহ পদ্ধতি ডিজিটাল করা জরুরি : ফররুখ শাহজাদ চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ই‌ন্তেকাল বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হাওর ভাতা প্রাপ্যতার দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ভাষা শহীদদের প্রতি পুরুষ অধিকার সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন
সুনামগঞ্জে সহকারী কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু আজ মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে স্থবিরতা

সুনামগঞ্জে সহকারী কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু আজ মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে স্থবিরতা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পদবি ও বেতন গ্রেড উন্নীত করণের দাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে রয়েছে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির সরকারী কর্মচারীরা। বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ব্যানারে এ কর্মসূচি করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন তারা। অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের কাজে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা মাঠ প্রশাসনে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুনামগঞ্জেও কর্মবিরতি পালনকালে আদালত ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থান করবেন কর্মচারীরা। সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী ও ভূমি কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির (১৩-১৬ গ্রেড) ২ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। সারা দেশে আছে প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে প্রতিটি শাখায় কাজ করছেন পাঁচ থেকে আটজন অফিস সহকারী। কিন্তু প্রতি শাখায় উচ্চমান সহকারীর পদ আছে মাত্র একটি। ফলে মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মচারী অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। অফিস সহকারী হিসেবেই চাকরি জীবন শেষ করতে হচ্ছে তাদের। পদোন্নতির কোন ব্যবস্থা পদক্ষেপ নেয়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কর্মচারীরা জানান, পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে কাজ করছেন মাঠ প্রশাসনের এমন হাজার হাজার কর্মচারী। এই কষ্ট নিয়ে অবসরে যাচ্ছেন এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন অনেকে। এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে দুই দশক ধরে নানাভাবে আন্দোলন করছেন তারা। পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন একাধিকবার। নীতিনির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বহুবছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদোন্নতির নির্দেশনা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেনি। এ দাবিতে কর্মচারীরা গত জানুয়ারি ও ফেব্রূয়ারির প্রথমার্ধ পর্যন্ত আন্দোলন করেছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে টানা কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান ও সভা-সমাবেশ করেছেন নিজ নিজ কার্যালয়ে। দিনে দু’-তিন-চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন। সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে দাবি না মানায় ফের আন্দোলনে যাচ্ছেন তারা। এ পর্যায়ে তিনদিন পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের অফিসিয়াল কাজে অংশ নেবেন না তারা। এ সময় কর্মচারীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করে সভা সমাবেশ করবে। আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২৮ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহাসমাবেশের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বাকাসসের নেতারা। বাকাসস’র সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি মো: আতাউর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেয়ার পরও দাবি না মানা রহস্যজনক। অফিস সহকারি হিসেবেই আমাদের মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। সমাজে আমরা হেয় হচ্ছি। মান মর্যাদা বলতে কিছুই থাকছে না। তিনি আরও জানান, ১৯৮৭ সালে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে ৩৪ বছরের অধীক সময় একই পদে কর্মরত আছি। আমাদের সাথে অনেকেই একই পদে থেকে অবসরে গিয়েছে এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনিভাবে অনেক কর্মচারী সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের অধীনে দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর চাকরী করেও কোন পদোন্নতি পাননি। চাকরী জীবনের শেষ দিকে কেউ কেউ উচ্চমান সহকারী/প্রধান সহকারী/সিএ কাম ইউডিএ/অফিস সুপার পদে পদোন্নতি পেলেও বেতন গ্রেডের কোন পরিবর্তন হয়না।
জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাও পদবি পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করেছেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে পদবি পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন জেলা প্রশাসকরা। কর্মচারীদের বর্তমান পদ পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তারা। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি। কর্মচারীরা জানান, একই পদের ২১ ধরনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীর পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১৯ মে সচিবালয়ের প্রায় দুই হাজার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির কমর্র্কতা পদে উন্নীত করা হয়। কিন্তু তাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বাকাসস’র সুনামগঞ্জ এর সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, যে পদে চাকরিতে ঢুকছে, সে পদ নিয়েই অবসরে যেতে হচ্ছে। এর চাইতে লজ্জার আর কি থাকতে পারে। কেরানি হয়েই মরতে হচ্ছে। সব বিভাগের কর্মচারীদের পদোন্নতি হয়, আমাদের হয় না। এক দেশে কি দুই আইন থাকতে পারে? গতকাল সোমবার প্রতিটি অফিসে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোন ধরনের কাজই হবে না। সকল কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করবেন।

শেয়ার করুন
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT