শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোটিশঃ
ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। নাগরিক আইটি থেকে কম মূল্যে ওয়েবসাইট বানাতে আজই যোগাযোগ করুন। কল করুন- ০১৫২১ ৪৩৮৬০১
সংবাদ শিরোনাম :
বামিংহামে করোনা দূর্যোগে খাবার বিতরণ করেন আলহাজ্ব কবির উদ্দিন ও ওয়াছিমুজ্জামান ছাতকে মধ্যরাতে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ-গ্রেপ্তার ১ সুনামগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে হারিছ উদ্দিনের স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে মৎস্যজীবি লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন ফোরামের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে কর্মবিরতি পালন নাজমুল হকের অকাল মৃত্যুতে নারী নেত্রী ফেরদৌস আরা পাখি”র শোক ও সমবেদনা দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে মত বিনিময় করেন ডক্টর সামছুল হক চৌধুরী মাদ্রাসা উন্নয়নে নগদ অর্থ প্রদান করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু বক্কর খাঁন সার্চ মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে ড. সামছুল হক চৌধুরী ও আবু বক্কর খাঁনকে সংবর্ধনা প্রদান
হাওড়বাসীর কান্না কে শুনবে,কে দাঁড়াবে পাশে-নিউ টাইমস্২৪

হাওড়বাসীর কান্না কে শুনবে,কে দাঁড়াবে পাশে-নিউ টাইমস্২৪

হাওড়বাসীর কান্না কে শুনবে,কে দাঁড়াবে পাশে ?

শাবজল হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয় আমাদের দেশে খাবার সংকট নাই, কিন্তু কই আমাদের ঘরেতো এখনো খাবার আইলো না, মুখ দেখি দেখি খাবার দিলে আমরা গরীবরা বাচঁতাম কেমনে? আমরা কারো কাছ থেকে সাহায্য পায়‌নি, কেউ খোঁজও নেয়‌নি আমাদের।যেই দিকে বড় চাকার গাড়ি যায় সেই দিকেই ত্রান পায়।আমাদের এলাকায় বড় চাকার গাড়ি আয় না,তাই আমরা সরকারি ত্রান পাইনা।ভোটের সময় আইলে হাত পাও ধরে, এখন তাদের খবর নাই।উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা বললেন এমন কথা। আরো বলেন,দেশের এই সংকটকালীন সময়ে কে দেখবে আমাদের,কে শুনবে আমাদের কান্না,কে দাঁড়াবে আমাদের পাশে ? এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দুষচিন্তা বিরাজমান।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ছিলানী তাহিরপুর এলাকার বৃদ্ধ বয়সি মাঝি সদর আলী বলেন- করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনি।আমার অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ ও করেছিলো,তারপর আমার কপালে জুটেনি সরকারি ত্রান।তবে কয়েক জন মাদ্রাসার ছাত্র এসে আমাকে কিছু খাবার দিয়ে গেছিল।
শুনেছি সরকারি ত্রান এসেছে,দু’এক জন পেয়েছে।তাঁদের মতো নাজেহাল পরিবার আরো শত শত আছে,এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি।

করোন ভাইরাসে অসহায়,দরিদ্র,শ্রমজীবী ও কর্মহীন মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী প্রদানে সরকারের নির্দেশ থাকলেও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত তেমন খাদ্য সহায়তা প্রদান করেনি কতৃপক্ষরা,এমন অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয়রা।গ্রাম প্রতি হাতে গোণা ৫-৬ টি পরিবার পেয়েছে সরকারি ত্রান। চলমান করোনা প‌রি‌স্থি‌তিতে বাইরে কোন কাজ না থাকায় ও বিভিন্ন কাজকর্ম( কয়লা ও চুনাপাথর) আমদানি-রপ্তানি এবং দোকানপাট বন্ধ থাকায় এ এলাকার অধিকাংশ প‌রিবার কষ্টে,অনাহারে জীবনযাপন করছেন।

সরজমিনে-উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও বিশেষ করে হাওড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়-উপজেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনুন্নত এ হাওরাঞ্চল গুলো,জনসংখ্যাও অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশী।মাটিয়ান, কদমতলী,উজ্জ্বলপুর,শিবরামপুর,বালিয়াঘাট,দুধের আউটা,ভুড়াঘাট,জামালপুর,তেলিগাঁও,রতনপুর,কামালপুর,মন্দিয়াতা,সিরাগাঁও,জয়পুর,গোলাবাড়ি,লামাগাঁও,ধোমাল,ইন্দ্রপুর,বিনোদপুর,রামসিমপুর,হুকুমপির,উঠিয়ার গাঁও,মানিকখিলা,সন্তোষ পুর,পাঠাবুকা,জিবনপুর এউ গ্রামগুলোতে প্রায় ৮ হাজার প‌রিবারের বসবাস। এর মধ্যে অনেক নিম্ন আয়ের প‌রিবারেরও বসবাস। যারা দিনমজুরের কাজ করে জীবন চালান। করোনা ভাইরাসে অন্যান্য এলাকার মত এই মহল্লার মানুষও কর্মহীন। সরকা‌রি নির্দেশনার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। অভাব অনটনে দিন কাটছে তাঁদের। জেলা প্রশাসন,এমপি,চেয়ারম্যানসহ কোন নেতাই তাঁদের খাদ্য সহায়তা দেয়নি।

বৃদ্ধ বয়সি এক ফেরিওয়ালা(মাঝি)সোনাফর আলী বলেন, সরকারের ছুটি মেলা দিন ওইছে,অনেক দিন ধরে ঘরবন্দী আছি কিন্তু এখনো ঘরে কেউ এক কেজি চালও নিয়ে আসে নাই। আমার একটি ছেলেই ছিলো সেও অনেক দিন হয় মারা গেছে,আমার পরিবারে ছোট ছোট নাতি নাতনী,তার মধ্যে একটি প্রতিবন্ধী(বোবা) তারেও ঠিকমতো খাওন দিতে পারি না।আগে নৌকা নিয়া বার হইলে কয়েক টাকা কামানো যাইত,এখন নদীও শুকিয়ে গেছে,অন্য কোথাও কাজেও যেতে পারিনা পুলিশের কথা শুনা লাগে। টিভিতে শুনছি দেশে খানির অভাব নাই কিন্তু কই আমাদের ঘরে তো খাওনই নাই। ভোটের সময় ঠিকই দুয়ারে দুয়ারে আসে কত প্রতিশ্রুতি দেয় অথচ কামের সময় দেখা নাই।

উপজেলার রামসিমপুর এলাকার সোয়েল মিয়া (শ্রমজীবী)বলেন-আমরা খাবার পাই নাই এখনো,তবে শুনছি উপজেলার আশে পাশে কয়েকটি এলাকায় দিয়েছে, তাহলে আমরা কি দোষ করলাম,আমাদের খাবার নাই কেন ? আমাদের কেনো খাবার থেকে বঞ্চিত করা হইতেছে ?

হাওড়পাড়ের বা‌সিন্ধারা বলেন-অসহায় একটি পরিবারেও এখন পর্যন্ত পৌছায়নি কোনো দপ্তর থেকে কোন প্রকার খাদ্য সহায়তা। নিম্ন আয়ের মানুষরা বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়লা,চুনাপাথর,চা-পান দোকানি ও দিনমজুর পরিবারগুলো হয়ে গেছে কর্মহীন। কর্মহীন হয়ে গেছে গার্মেন্টসে খেটে খাওয়া কাজের শ্রমিকারা।এদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার দায়িত্ব কার বা কাদের?

হাওড় এলাকার বা‌সিন্ধা সাংবা‌দিক আহম্মেদ কবির বলেন-আমার জানা মতে প্রতি গ্রাম থেকে ২-৩ জন করে ১০ কেজি চাউল পেয়েছেন।
স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষরা আমাকে জা‌নিয়েছেন,তাঁরা খাদ্য সহায়তা পাননি।এলাকার জনপ্র‌তি‌নি‌ধিরা তাঁদের খোঁজ খবর নিচ্ছেনা। এবিষয়ে এমপি,চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের নজর দেয়া উ‌চিত।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান-আমার ইউনিয়নে অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে জনসংখ্যা বেশী।জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের পরিমাণ কম।অন্য ইউনিয়নে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় আমার ইউনিয়নেও তার সমপরিমাণ দেওয়া হয়,অথচ আমার ইউনিয়নে জনসংখ্যা অনেক বেশী।গত সপ্তাহে সরকারি ত্রান ১০ কেজি চাউল দিয়েছি এবং আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ কেজি আলো ১ কেজি ডাল দিয়েছি।এখন আবার নতুন করে অসহায়দের লিস্ট করেছি,যাদের নাম লিস্টে উঠেনি পরবর্তীতে তাঁদেরকেও দেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু বাবুল বলেন-সদর বা হাওড় পড় নয়,উপজেলার প্রত্যেকটি হতদরিদ্র, কর্মহীন,অস্বচ্ছ পরিবার সরকারি ত্রান পাবে।এজন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অসহায়,দিনমজুরিদের লিস্ট করার জন্য।তবে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি চলবে না,লিস্ট হাতে পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে দেখবো।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি বলেন-শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত সরকারি ত্রান দেওয়া হবে।অনেকগুলো পরিবারকে ত্রান দিয়েছি আরো দিবো,আমি ফেইসবুকেও পোস্ট করেছি হতদরিদ্র,কর্মহীন,দিনমজুরদের নামসহ ঠিকানা কমেন্ট বা ইনবক্সে দেওয়ার জন্য।শুধু হতদরিদ্র না মধ্যবিত্ত’রাও ত্রান পাবে। যদি কারো নাম বাদ পড়ে যায় তাহলে আমাকে অবগত করার অনুরোধ রইলো।

শেয়ার করুন
  • 138
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT