জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে একনজর দেখার জন্য দুপুর থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করতে শুরু করেন। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে অবস্থান নেন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও বেলুন দিয়ে পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মানুষের চোখে-মুখে ছিল দারুণ উৎসাহ এবং উদ্দীপনা।
এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় ছোট ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রির ধুম পড়ে যায়। কেউ ভ্যানে করে খাবার বিক্রি করছেন, আবার কেউ হরেক রকম পতাকা ও পানির বোতল নিয়ে ক্রেতাদের ডাকছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে দল বেঁধে এসেছেন প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জীবনের প্রথমবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে খুলনার দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে।
খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন স্থানীয়বাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, বিগত বছরগুলোতে এই জনপদ নানাভাবে অবহেলিত ছিল। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বন্ধ কলকারখানা চালু এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা নগরীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে সাধারণের চলাচল সীমিত করা হয় এবং স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন এবং বাগেরহাটে ঐতিহাসিক মাজার শরিফ জিয়ারত শেষে খুলনায় পৌঁছান।
