রেলের ৩ হাজার একর জমি বেদখলে, সংসদীয় কমিটিতে তথ্য - New Times

রেলের ৩ হাজার একর জমি বেদখলে, সংসদীয় কমিটিতে তথ্য

লেখক/প্রতিবেদকঃ নিউ টাইমস ডেস্ক
প্রকাশঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশাল ভূসম্পত্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিতে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেলওয়ের সামগ্রিক জমির পরিমাণ ও এর ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার একর জমি বর্তমানে বিভিন্ন পক্ষের বেদখলে রয়েছে এবং এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের মোট জমির একটি বড় অংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে এই ইজারা খাত থেকে সরকারের মোট আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী রেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে সম্প্রতি রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা অবৈধ জমি উদ্ধার এবং ভূমির সঠিক ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটি অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে রেলভূমিতে সংঘটিত মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এই বৈঠকে রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। টিকিটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অনুপাতে টিকিট ছাড়ার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি রেলের বহরে নতুন লোকোমোটিভ ও ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করার মাধ্যমে মালবাহী ও যাত্রী পরিহন বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।