সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’: জামায়াত নেতা আযাদ - New Times

সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’: জামায়াত নেতা আযাদ

লেখক/প্রতিবেদকঃ নিউ টাইমস ডেস্ক
প্রকাশঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা এবং ক্ষমতা ছাড়ার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সরকার যদি স্বেচ্ছায় ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তবে তাদের জোর করে সে দায়িত্বে আটকে রাখা সম্ভব নয় এবং নানা অজুহাত তৈরি করে তারা পালানোর পথ খুঁজছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন যে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হামলা এবং পঙ্গুত্ববরণের মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর দৃশ্যমান কোনো বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসন কোনো আঁতাত করে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরির পাঁয়তারা করছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া বিএনপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গুঞ্জন চলছে, সে বিষয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।

আসন্ন উপনির্বাচনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন যে আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অতীতের মতো কোনো কারসাজি করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ধরনের কোনো হীন প্রচেষ্টা চালানো হলে তা মাগুরা উপনির্বাচনের ইতিহাসের মতো করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের জোটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে।

বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি দলের আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। জানানো হয় যে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী এক বিশাল লংমার্চের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার উদ্বোধন হবে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটক থেকে। প্রায় এক হাজার গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে এই লংমার্চটি পদ্মা সেতু হয়ে নির্ধারিত বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করবে এবং পথে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।