সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0
12

নিউ টাইমস ডেস্ক: ১০ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, বিশ্ব বরেণ্য কুটনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেটের এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৭ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তারপর ইংলিশ বারে অধ্যয়ন করেন ও লন্ডনের ইনার টেম্পলের একজন সদস্য হন। লন্ডনেরই ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠান’ থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়াও, ম্যাসাচুসেটসের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপে পাকিস্তান ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন। সে সুবাদেই তিনি যুক্তরাজ্যে প্রথম এশিয়ান স্টুডেন্টস কনফারেন্স আয়োজনে সক্ষমতা দেখান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কুটনৈতিক যোদ্ধা, দেশের পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়নের অন্যতম কারিগর সজ্জন, সুপুরুষ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী। রাজনীতির কলুষতামুক্ত উন্নয়নকামী এই জননেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে অাশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
একাধিক আসন থেকে বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অাপাদমস্তক ভদ্রলোক, মেধাবী এই মানুষটি সিলেটের উন্নয়নে ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বৃহত্তর সিলেটের টেকসই উন্নয়নের সূচনা তাঁর হাত দিয়েই। সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য থাকার সময় জগন্নাথপুর কলেজ স্থাপন, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণসহ সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গ্রহণ করেছিলেন মহাপরিকল্পনা। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বাস্তবায়ন হয়েছে।
১৯৯৬-২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করার সময় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে পালন করেন যুগান্তকারী ভূমিকা। খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী প্রবাসে বিশেষ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু করতে অসামান্য অবদান রাখেন। অান্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি যে মেধা ও বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন তা সুবিদিত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত মহান এই দেশপ্রেমিক ২০০১ সালের ১০ জুলাই ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ক্ষণজন্মা এই খ্যাতিমান কুটনীতিক ও সফল রাজনীতিবিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here