ছাতকে স্ত্রী’র বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত স্বামীর মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ

0
88

বাবুল মিয়া: ছাতকে যৌতুক লোভী স্বামীর প্রতারণার শিকার হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন এক গৃহবধু। আদালত সুত্র জানায়, জেলার ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের বড়চাল গ্রামের মোঃ ইজ্জাদ আলী চৌধুরীর কন্যা আলিমা চৌধুরী সুবর্ণা’র সাথে একই ইউনিয়নের বাগইন গ্রামের হাজী মোঃ বাদশা মিয়ার পুত্র মোঃ তানভীর সুহেল এর সাথে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের নিকাহ নামায় ৭ ভরি স্বর্ণ ও ৬ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে বিবাহ হম্পন্ন হয়। বিবাহের দিন আলিমার পিত্রালয় থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা সহ মোট ৫ লক্ষ টাকার মালামাল উপঢৌকন বাবদ দেয়া হয়। বিবাহের পর যথারীতি আলিমা চৌধুরী সুবর্ণাকে স্বামীর বাড়িতে উঠাইয়া নেয়া হয়। কিছু দিন তাদের দাম্পত্য জীবন সুখ শান্তিতে অতিবাহিত হলেও সুখের স্থায়িত্ব বেশিদিন হয়নি। যৌতুক লোভী স্বামী তানভীর সুহেল মাদকাসক্ত থাকায় তাদের সুখের সংসারে নেমে আসে অশান্তির আগুন। সুবর্ণা স্বামীর মাদকাসক্ত বুঝতে পেরে তাকে সুপথে নিয়ে আসার প্রানান্ত চেস্টা করে। দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে মাদকাসক্ত স্বামীর নেশার টাকা যোগাড় করতে স্ত্রী আলিমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেও পিতা মাতার সম্মান রাখতে কাউকে বিষয়টি অবগত না করে স্বামীকে সুপথে ফিরিয়ে আনার আরও চেষ্টা করে। কিন্তু কে কার কথা শুনে। কিছুদিন পর স্বামীর দেয়া ও পিতার বাড়ী থেকে নিয়ে আস স্বর্নালংকার ও নগদ অর্থ মাদকের পিছনে নষ্ট করে ফেলে স্বামী তানভীর।পরবর্তীতে বিষয়টি পিতাকে অবহিত করেন নির্যাতিতা সুর্বনা। আলিমার পিতা ইজ্জাদ আলী জানান, আমার মেয়েকে ৭ ভরি স্বর্ণ ও ৬ লক্ষ টাকা দেন মোহর উসুল বাদে ৫ লক্ষ টাকা এমনকি ৭ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ৪ ভর্রি স্বর্ণ দিলেও নেশার টাকার জন্য আলিমাকে দেয়া ৪ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে দেয় স্বামী তানভীর। নির্যাতিতা আলিমা জানায়, গত ৩ জুলাই রাতে আমার স্বামী তানভীর সুহেল নেশাগ্রস্থ হইয়া যৌতুক হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা আমার পিত্রালয় থেকে এনে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করে। আমি যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তানভীর আমাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রহারসহ ধারালো ব্লেড দিয়ে ডান হাত কেটে রক্তাক্ত করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি ন্যায় বিচারের আশায় ছাতক জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করি। যার পিটিশন মোকদ্দমা নং সি,আর-২১২/২০১৯ এবং পারিবারিক আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করি। আদালতে মামলা দায়ের করলেও তানভীর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে গত ২৬ জুলাই দৈনিক শ্যামল সিলেট ও ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকায় স্বর্ণ চুরির অভিযোগ তুলে মান সম্মান নষ্ট করার চেস্টা করছে। আমি স্বামী বাড়ি থেকে স্বর্ণ আনার কোন প্রশ্নই উঠে না। আমার স্বামী নির্যাতন করে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, সেখানে স্বর্ণালংকার চুরি করার কোন সুযোগ নাই। অথচ এসব সংবাদে আমার কোন বক্তব্য না নিয়ে প্রতিবেদক মনগড়া বক্তব্য উপস্থাপন করে মান হানি ঘটিয়েছে। আমি এসব সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আদালতে অভিযোগ দায়ের করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here