প্লাস্টিকের সর্বব্যাপী আগ্রাসন রুখতে উদ্যোগ নিতে হবে

0
168

রান্নঘরের তেলের বোতল, পানির বোতল, মগ, বালতি, বিস্কুটের প্যাকেট, চায়ের প্যাকেট, মশলার প্যাকেট থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল, টুল, টেবিল, ঢাকনা, তালা, গ্লাস, বাটি, চামচ, টিফিন বক্স, ঘরের দরজা-জানালা, ইলিকট্রিক পাখা, ছাতারবাট, গায়ের বর্ষাতি, পায়ের চপ্পল, জুতো গাড়িতে বসার সিটের স্পঞ্জ, ফোম, ঢাকনা, কোথায় নেই প্লাস্টিক। আছে চশমার ফ্রেমে, কলমের শরীরে, কম্পিউটারে , ল্যাপটপে, শার্ট-পেন্টের বোতামে, চেনে, কোমরের বেল্টে, ঘড়ির বেল্টে, চিরুনিতে, হাতের স্টিকে, ঔষুধের প্যাকেটে, ঔষুধের বোতলে, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জে, ছোট বড় পানির পাইপে।

বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বময় ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক সামগ্রী বিভিন্ন আকৃতিতে, বিভিন্ন প্রকৃতিতে। প্রতি বছর ত্রিশ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরী হচ্ছে পৃথিবীতে। এক হিসেবে দেখো গেছে, গত এক দশকে বিশ্বে যত প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি হয়েছে, তার আগের একশো বছরেও তা হয়নি।
প্লাস্টিক পণ্য ওজনে হালকা, বহনে সহজ, প্রয়োজনে সহজেই যত্রতত্র নিয়ে ব্যবহার করা যায়, দামেও সস্তা। পলিথিনের একটি ছোট্ট প্যাকেট ভাঁজ করে বুক পকেটে পুরে সাহেব সেজে বাজারে গিয়ে দুই-তিন কেজি ওজনের শাক-সবজি বা মালপত্র নিয়ে সহজেই বাড়ি ফেরা যায়। এইভাবে হাজার রকমের সুবিধা রয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহারে। তাই এই যুগকে প্লাস্টি যুগ বললে নিশ্চয়ই বেশি বলা হবে না। অবশ্য ইতিহাসের লৌহ যুগ বা তা¤্রযুগের মত প্লাস্টিক যুগ কিন্তু মানবসভ্যতার অগ্রগতির নিশান উড়িয়ে যাচ্ছে না মোটেই বরং বিপরীত কাজটি করে যাচ্ছে অহরহ।
প্লাস্টিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘প্লাস্টিকস’, থেকে। প্লাস্টিকস-এর অর্থ ছাঁচে ফেলা বস্তু। সহজ করে বলা যায়, ছাঁচে ফেলে ইচ্ছামতো আকৃতি দিয়ে বানানো বস্তু। আরও সহজ করে হয়তো বলা যাবে যে, বস্তুকে ছাঁচে ফেলে ইচ্ছামতো আকৃতি দিয়ে পছন্দের দ্রব্যটি বানিয়ে নেওয়া। উপরে উল্লেখিত দ্রব্যসামগ্রীর প্রতি একটু মনোযোগ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেব।
রাসায়নিক বিচারে প্লাস্টিক একটি পলিমার। পলি শব্দের অর্থ বহু, মার শব্দের অর্থ একক। অর্থাৎ কোনো বস্তুর একককে রাসায়নিকভাবে বহু সংখ্যায় যুক্ত করে নিজে তাকে বড় আকার দেওয়া। আবার একটি মাত্র বস্তুর একক ব্যবহার করে কিন্তু প্লাস্টিকের যাবতীয় দ্রব্য তৈরি হচ্ছে না। অনেকগুলো বস্তুর একক ভিন্ন ভিন্ন দ্রব্যের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এইসব বস্তুর মধ্যে আছে ইথলিন, প্রোপাইলিন, বিউটেন, স্টাইরিন ইত্যাদি। কী বস্তুটি বানানো হবে, সেই বিচারেই ববহৃত বস্তু নির্বাচন করা হয়। আবার বস্তুটির সাথে মনমতো রং মিশিয়ে বানানো বস্তুটির রং দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here