ফাতেমাতুজ্জোহরা আফিয়া
গভীর রাতের নিরবতায় তাহাজ্জুদ যে আপনাকে আল্লাহর কতটা কাছে নিয়ে যেতে পারে, তা যে কখনো অনুভব করেনি, সে কখনোই বুঝতে পারবে না এই অনুভূতির গভীরতা।
পৃথিবী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, চারপাশ যখন নিস্তব্ধ, মানুষ যখন নিজের সমস্ত ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় তাদের রবের সামনে। কোনো মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নয়, কারও প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায়।
তাহাজ্জুদ এমন এক ইবাদত, যেখানে আপনি আর আপনার রব- মাঝখানে কোনো মানুষের প্রয়োজন নেই। থাকে শুধু আপনার মনের কথাগুলো, আপনার চোখের পানি, আপনার অসহায়ত্ব আর আল্লাহর প্রতি আপনার অগাধ বিশ্বাস।
সারাদিনের ব্যস্ততায় হয়তো অনেক কথা বুকের মধ্যে জমে থাকে। এমন অনেক কষ্ট থাকে, যা কাউকে বোঝানো যায় না। এমন কিছু চাওয়া থাকে, যা মুখে প্রকাশ করতেও সংকোচ হয়। কখনো নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা হয়, কখনো ভবিষ্যতের চিন্তায় মন ভারী হয়ে আসে। অথচ রাতের সেই নির্জনতায় সিজদায় মাথা রেখে যখন আপনি আপনার রবের কাছে সবকিছু খুলে বলেন, তখন মনে হয়- এই পৃথিবীতে কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, আপনার রব তো আপনার মনের প্রতিটি কথাই জানেন।
তাহাজ্জুদ আপনাকে শুধু দোয়া করতে শেখায় না, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখায়। শেখায়, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও সবকিছু আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শেখায়, দেরি হওয়া মানেই প্রত্যাখ্যান নয়, আর কোনো দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই সব আশা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, আপনি যখন সবার কাছ থেকে আড়াল হয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ান, তখন আপনাকে নিখুঁত হতে হয় না। আপনার শুধু আন্তরিক হতে হয়। ভাঙা মন, অশ্রুসিক্ত চোখ আর অসংখ্য অপূর্ণতা নিয়েও আপনি তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারেন।
হয়তো আপনার দোয়ার উত্তর এখনো আসেনি, কিন্তু সেই দোয়া করতে গিয়ে আপনার হৃদয় যে আল্লাহর দিকে ফিরে যাচ্ছে, সেটাও এক অপূর্ব নিয়ামত।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের মিষ্টতা অনুভব করার, তাঁর কাছে মন খুলে বলার এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
