জাতীয় ডেস্ক: সাধারণ মানুষের জন্য খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রির জনপ্রিয় কর্মসূচি ওএমএসের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ আটা বিতরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, মানুষের কেবল ক্যালরির চাহিদা মেটালে চলবে না, বরং তাদের পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে দেশের শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে সাধারণত খাদ্য সমৃদ্ধকরণ বা ফর্টিফিকেশন বলা হয়ে থাকে। এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ফর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ বা এফএবি নামের একটি নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই বিশেষ জোটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব জোরদার করে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চাল ও আটা-ময়দায় পুষ্টি উপাদান মেশানো বাধ্যতামূলক করতে পৃথক দুটি আইন প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই নিয়ম বাস্তবায়নের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ২০৩০, ২০৩৫ এবং ২০৪০ সালকে মাইলফলক ধরে ধাপে ধাপে শতভাগ খাদ্য ফর্টিফিকেশন অর্জনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন তিনি। শুধু সাধারণ ওএমএস নয়, বরং হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশুসদন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর রেশনেও এই পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও আটা সরবরাহের পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় খাদ্য সমৃদ্ধকরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ জানান, অনেক পরিবার পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরিযুক্ত খাবার পেলেও তাদের শরীরে ভিটামিন ও খনিজের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যায়। এ ছাড়া প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা কেবল আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। অণুপুষ্টি উপাদান এবং গবেষণার যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর হ্রাসের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জোরালো সুপারিশ করেন তারা।
