খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয় কেন? - New Times
[t4b-ticker]

খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয় কেন?

লেখক/প্রতিবেদকঃ New Times
প্রকাশঃ October 24, 2026

স্বাস্থ্য ডেস্ক: খাবার গ্রহণকালে বা খাবার দেখামাত্র অনেকের মুখ ও গলায় মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই শারীরিক অবস্থাকে গাস্টেটরি সোয়েটিং বলা হয়ে থাকে। সাধারণত ঝাল খাবার খেলে কিছুটা ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও, ঝাল ছাড়া সাধারণ খাবার খাওয়ার সময় বা কেবল ঘ্রাণ পেলেই অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ঘাম নির্গমন প্রক্রিয়াটি মূলত অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম বা স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে এই স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে খাওয়ার সময় এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘামের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিডনির জটিল রোগ কিংবা মুখের কাছে অবস্থিত প্যারোটিড গ্রন্থিতে অতীতে কোনো ধরনের সার্জারি হয়ে থাকলেও এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মুখের এক পাশের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার জটিলতা বা বেলস পালসি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার পরেও অনেক সময় এই উপসর্গটি থেকে যায়। তাই এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রথমে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সুনির্দিষ্ট কারণটি শনাক্ত করতে হবে। মূলত ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগ থাকলে তা যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখলে এই ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চিকিৎসকরা ক্ষেত্রবিশেষে স্নায়ুর সমস্যা নিরসনে প্রিগাবালিন বা অ্যামিট্রিপটাইলিনের মতো ওষুধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন, যা রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সেবন করতে হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। গুরুতর ও জটিল কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বটুলিনাম টক্সিন প্রয়োগের মতো চিকিৎসাপদ্ধতিও বেছে নিতে পারেন, তাই এ বিষয়ে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।