জাতীয় ডেস্ক: সাজেকে পাহাড়ি ছাত্র সংগঠনের লোকজনের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিজেদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষে খাগড়াছড়ির গুইমারায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থित ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হওয়ায় জেলার স্বাভাবিক জনজীবন থমকে গেছে। সকালের দিকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে এমন কর্মসূচি পালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

অবরোধের সমর্থনে শনিবার সকালে গুইমারা উপজেলার কালাপানি ও বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকায় প্রধান সড়কে টায়ার ও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। এর আগে রাতের আঁধারে গুইমারার হাফছড়ি এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়। এসব গাছ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে খাগড়াছড়ি জেলার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ আশপাশের অঞ্চলের সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সকালে গন্তব্যস্থলে রওনা হওয়া সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন এবং অনেক গাড়ি মাঝপথেই আটকা পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল দ্রুত সচল করতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সড়ক বিভাগ। গুইমারা ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরালো করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা রাস্তার ওপর থেকে গাছের গুঁড়ি অপসারণ এবং আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

ঘটনার বিষয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন জানান, হাফছড়ি এলাকায় গাছ কেটে এবং বাইল্যাছড়িতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দুর্বৃত্তরা যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তার ব্যারিকেড অপসারণের কাজ শুরু করে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।