আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের সামরিক বাহিনীর তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেহরানের সামরিক শক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে […]
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের সামরিক বাহিনীর তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেহরানের সামরিক শক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি পুরোপুরি আটকে গেছে। এর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই অর্থনৈতিক কঠোরতার কারণে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির পক্ষে নিয়মিতভাবে সেনাসদস্যদের বেতন পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটনের এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেহরান জানিয়েছে যে তাদের অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ার যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আবদোলনাসের হেম্মতি এই ধরনের মার্কিন বক্তব্যকে নিছক কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হামলা এবং চলমান নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে যে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেই বাস্তবতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে তেহরান।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, আগামী অর্থবছরে ইরানের অর্থনীতি প্রায় সাত শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও চলমান যুদ্ধ ও নৌ অবরোধের ফলে সৃষ্ট নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে লেবাননের হিজবুল্লাহ কিংবা ইয়েমেনের হুথিদের মতো ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যদিও তেহরান তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।