পরিবর্তন হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম, চিকিৎসক সংকটে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মন্ত্রীর - New Times
[t4b-ticker]

পরিবর্তন হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম, চিকিৎসক সংকটে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মন্ত্রীর

লেখক/প্রতিবেদকঃ New Times
প্রকাশঃ October 24, 2026

জাতীয় ডেস্ক: দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংকট দূর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই প্রায় ষোল হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের সকল কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করে ফ্যামিলি ওয়েলবিয়িং সেন্টার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান।

পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নজর কাড়ে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কয়েকজন চিকিৎসকের উপস্থিতির রেজিস্টার ও রোস্টার সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে নতুন ভবনের নিচতলায় ময়লার স্তূপ এবং শৌচাগারের বেহাল দশা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গাইনি ওয়ার্ডে এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বাধ্য করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং নিজ উদ্যোগে ওই রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেন।

হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে এক হাজার শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন সেখানে তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ময়মনসিংহ ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এই পরিস্থিতি রাতারাতি বদলানো সম্ভব না হলেও সরকার পর্যায়ক্রমে সংকট উত্তরণে কাজ করে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন দরপত্রের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে।

জনবল সংকট দূর করতে খুব দ্রুত পাঁচ হাজার নার্স এবং পঁচিশ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া বন্ধ থাকা শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সেবা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা একশ থেকে দেড় শতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারাকান্দা হাসপাতালে শিগগিরই ইনডোর সেবা চালু এবং ফুলপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সরকারি হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা অননুমোদিত বেসরকারি ক্লিনিক ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান যে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো নতুন ক্লিনিক করা যাবে না এবং বিদ্যমান ক্লিনিকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র সরকারের ভুলত্রুটি সংশোধনে সাহায্য করে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।