জাতীয় ডেস্ক: ঝালকাঠিতে সম্প্রতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক জেলা পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা ও উপজেলা […]
জাতীয় ডেস্ক: ঝালকাঠিতে সম্প্রতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক জেলা পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা ও উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ ও নৈতিকতা অর্জনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক শুদ্ধাচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেবল ভালো ফল অর্জন করলেই চলবে না, জীবনকে সুন্দর করতে হলে নৈতিকতা ও সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তিনি বাড়ির আশপাশে শাকসবজি চাষ এবং গৃহপালিত হাঁস-মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাগ্রে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার প্রশংসা করে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই প্রজন্মেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অসামান্য প্রতিভা। তাদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। কোনো একক অর্জন নয়, বরং নিজেদের অন্য সহপাঠী ও ভাইবোনদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যেসব বিশেষ প্রতিভা উঠে আসবে, তাদের প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম করার বিষয়ে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিবেশ সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজেদের বাসস্থান ও আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। পরিশেষে তিনি ঝালকাঠির কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তারা নিজেদের মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্য ধরে রাখার নানা দিক নিয়ে বিশদ মতবিনিময় করেন।