ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদ উৎসবের মতো: আব্দুল হালিম - New Times
[t4b-ticker]

ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদ উৎসবের মতো: আব্দুল হালিম

লেখক/প্রতিবেদকঃ New Times
প্রকাশঃ October 23, 2026

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই এবং এই আসনকে কোনোভাবেই মাগুরা স্টাইলের নির্বাচনের মতো বিতর্কিত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। সম্প্রতি নির্বাচন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই একটি আসনের ফলাফল বা জয়-পরাজয়ের ওপর সরকারের পতন কিংবা বিরোধী দলের বড় কোনো বিপর্যয় নির্ভর করছে না, তাই পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো মানে হয় না।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা নির্বাচনী মাঠে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে বাধা ও হুমকির তীব্র অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজীপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় তাদের নারী ও পুরুষ কর্মীদের গণসংযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতার ইন্ধনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া রুহিয়া উপজেলার আখানগরে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে এবং রহিমাপুরে সমাবেশে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সমালোয়না করে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, মুখে নারী অধিকারের বড়াই করা হলেও জামায়াতের নারী কর্মীরা যখন ভোটের মাঠে নামে, তখন তাদের ওপর নানা চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এমন আচরণকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্টের পাঁয়তারা করছেন। তবে প্রশাসন এ পর্যন্ত যে ভূমিকা পালন করেছে তাকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

আসন্ন উপনির্বাচনটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক ধারা সূচিত হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন যেন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। কোনো নির্দিষ্ট দলের জয়লাভের চেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি ভীতি কাটিয়ে দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের রায় মাথা পেতে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।